Saturday, September 29, 2018




আমার ভালবাসা বুঝলেনা

আরিফ জামান

(পার্ট-১৪)


ছায়ার কাছ থেকে ট্যাক্সির দূরত্ব যতই বাড়ছে আথনুক তত বেশি ভেঙে পড়ছে, আথনুক নিজেও বুঝতে পারছেনা সে কি করবেআথনুক এই প্রথম তার ভালোবাসার মানুষটির চোখে পানি দেখলো যা তার এই কাজটি করা মোটেও উচিত হয়নিআথনুক ছায়াকে বলছে ছায়া তুমিতো চোখ দিয়ে পানি ঝরিয়ে তোমার মনকে সান্তনা দিচ্ছ কিন্তু! এই হতভাগা তাও পারছেনা মনের দুঃখ মনে চেপে একটু একটু করে হজম করছেতুমি হয়তোবা একটু সময় কেঁদে মনের দুঃখ মুছে ফেলে সারারাত আরামে ঘুমাবে কিন্তু! আমি বিছানার উপর শুয়ে গলাকাটা মুরগীর মত ছটপট করবোতুমি তোমার দুঃখ গুলো প্রকাশ করতে পারো কিন্তু! আমি এমনি একজন মানুষ আমার মনের দুঃখ গুলো কারো কাছে না পারি কৈতে না পারি সৈতে


কিন্তু তারপরো আমি হাসি মুখে বলি আমার যতো কষ্টই হোকনা কেন আমি তোমাকে সবসময় খুশি দেখতে চাইছায়া তুমি বিশ্বাস করো আজকে আমি তোমাকে কাঁদতে চাইনি আমি যখন খাবার টেবিল থেকে উঠে বড় মুখ করে তোমাকে ডাকতে যাচ্ছিলাম তখন তুষার আমাকে একটা কথা বলেছে “কোনো লাভ নেই ও আসবেনা কারণ আমি ওকে ডেকে এসেছি সে বলেছে পরে খাবে” আমি তুষারের এই কথা গায়ে না লাগিয়ে অনেক গর্বের সাথে তোমাকে ডাকতে গিয়েছিলাম কিন্তু তুমি যখন তুষার এবং আমাকে একই পাল্লায় রাখলে তখন আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারিনি

মনের কষ্ট গুলো একটু একটু করে হজম করতে করতে কখন যে ট্যাক্সি ক্যাব বাসার নিচে এসে পৌঁছে গিয়েছে আথনুক নিজেও জানে নাহঠাৎ আথনুক… আথনুক…. করে কে যেন ডাকছেআথনুক চমকে উঠে তাকিয়ে দেখে বাসার নিচে ট্যাক্সি ক্যাব দাড়িয়ে আছে আর জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আথনুকের আম্মু ডাকছে আথনুক…! এই আথনুক….! বাসায় পৌঁছে গিয়েছি ট্যাক্সি থেকে নেমে পর বাবা….! এই বলে আম্মু উপরে চলে গেলো আথনুক মন খারাপ করে ট্যাক্সি ক্যাব থেকে নেমে ট্যাক্সি ভাড়া দিয়ে উপরে চলে গেলো

আজকে আথনুকের মন ভিশন খারাপ কারণ সে তার ভালোবাসার মানুষকে কাঁদিয়েছে তাই সে রুমের বাতি না জ্বালিয়ে অন্ধকারের মধ্যে বিছানার উপর শুয়ে পড়লহঠাৎ করে ঘরে আলো জ্বলে উঠলো আথনুক লক্ষ্য করলো টেবিলের উপর রাখা তার মোবাইলের আলো জলছে অন্ধকার ঘর মোবাইলের আলোতে একটু আলোকিত হয়েছেআথনুক সেই আলোতে দেয়ালে থাকা দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকিয়ে দেখলো রাত ১২:৪৫ বাজেআথনুক বুঝতে পেরেছে এতো রাতে তাকে কে ফোন করেছে তাই সে উঠে ফোন ধরতে গেল কিন্তু ফোন ধরা দেরি হওয়াতে মিসকল হয়ে গেলোআথনুক ফোনের ওকে বাটন চাপ দিতেই দেখে ফোনে ১৩টি ম্যাসেজ এবং ২৮টি মিসকল হয়ে রয়েছে। (আথনুকের ফোন সাইলেন করা থাকতে সে বুঝতে পারেনি যে তার ফোন বাজছে)

আথনুক ফোন হাতে নিয়ে প্রথম এসএমএস টি ওপেন করলোএসএমএস টিতে লেখা ছিল (Sorry…… আমার ভুল হয়েছে আমাকে ক্ষমা করে দাও)ছায়া এসএমএস এর কোনো উত্তর না পেয়ে ঠিক ২ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের মাথায় আবার একটি (দ্বিতীয়) এসএমএস করেছে। ( বোল্লাম-তো Sorry…… আমার ভুল হয়েছে আমাকে ক্ষমা করে দাও)ছায়া এবারও এসএমএস এর কোনো উত্তর না পেয়ে ঠিক ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ড পর (তৃতীয়) এসএমএস টি করলো। ( এই আমি কানে ধরছি আর ভুল হবেনা এবার এসএমএস এর উত্তর দাও Please……!) আথনুক যখন তার ভালোবাসার মানুষটির এসএমএস গুলো পড়ছিলো তখন তার চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল এবং পাগলিটার কথা গুলো পরে মনে হৃদয়ের ভিতর অফুরন্ত ভালোবাসা জন্ম নিচ্ছিলোআথনুক এবার চতুর্থ এসএমএসটি ওপেন করলোছায়া এই এসএমএস টা করেছে ঠিক মিনিট ৫৭ সেকেন্ড পর, দেখ! (যদি তুমি এসএমএস এর উত্তর না দাও তাহলে আমি কিন্তু কান্না করবো)ছায়া এভাবে একের পর এক মোট ১৩ টি এসএমএস করেছে যা আথনুকের ছোট্ট একটি ভুলের কারণে ছায়ার মায়া ভরা এসএমএস এর উত্তর দিতে পারেনি আর সেই ভুলটি ছিলো সে তার ফোনটি সাইলেন্ট করে রেখেছিলোকিন্তু! সর্ব শেষ এসএমএসটি আথনুক যখন ওপেন করলো সেই এসএমএস টিতে আথনুক যে জিনিসটা দেখতে পেলো সেটা ছিল তার কল্পনার বাহিরে।।



খুব শীগ্রই এই গল্পের (পার্ট-১৫) পোস্ট করা হবে




Very soon will be posted (Part-15) of this story.




 





আমার ভালবাসা বুঝলেনা

আরিফ জামান

(পার্ট-১৩)


ছায়া আথনুকের কোলের উপর পড়ে যাওয়াতে আথনুক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে বিছানার দিকে গা ছেড়ে দিলদুজনে বিছানার উপর পড়ে যাওয়াতে ছায়ার ঘন কালো চুলগুলো দিয়ে আথনুকের মুখ ঢেকে গেলোআথনুক এক হাত ছায়ার পেটের উপর রেখে আরেক হাত দিয়ে ছায়ার চুল গুলো সরিয়ে দিলোছায়ার চুল গুলো সরিয়ে দেয়ায় ছায়ার কোমল ঘাড়ের ছোয়া বারবার আথনুকের ঠোঁট স্পষ্ট করছে আথনুকের ঠোঁট যখনি ছায়ার কোমল শরীর স্পর্শ করছে তখনি ছায়া কেঁপে উঠছে এবং এর সাথে ছায়ার শরীর শিউরে উঠছেছায়া কোনো কিছু বলার আগেই আথনুক সাহস করে ছায়ার কোমল ফর্শা ঘাড়ে আলতো করে একটা চুমু দিলোআথনুক ছায়ার কোমল ঘাড়ে আলতো করে চুমু দেয়ার পর ছায়ার অনুভুতি বোঝার চেষ্টা করলোআথনুক লক্ষ্য করলো ছায়ার কোনো রিঅ্যাকশন নেই তাই সে সাহস করে ছায়াকে বুকের উপর থেকে নামিয়ে দিয়ে বিছানার উপর শুইয়ে দিল

আথনুক ছায়াকে বিছানার উপর শুয়ে দেয়ার পর লক্ষ্য করলো ছায়া পূর্বের মত তার গোলাপের পাপড়ির মত ঠোঁট দুটো কাঁপাচ্ছে এবং ঠোঁটটের আশেপাশে ঘাম গুলো জমে মুক্তোর দানার মতো জল জল করছেআথনুক ভাবলো সে আজকে যদি ছায়াকে তার ভালোবাসার অনুভূতি বোঝাতে না পারে তাহলে মনে হয় আর কখনোই পারবেনা তাই আর দেরি না করে ছায়ার কপালে আলতো করে চুমু দিলএতেও ছায়ার কোনো রিঅ্যাকশন নেইএবার আথনুকের সাহস আরো বেড়ে গেলো আথনুক ছায়াকে চুমু দেয়ার জন্য ধীরে ধীরে ছায়ার ঠোটের দিকে তার মুখটি নিতেই তুষার রুমে প্রবেশ করলতুষার, আথনুক এবং ছায়াকে এই অবস্থায় দেখে থমকে গিয়ে বলে ফেললো Uffs!! Sorry……! মনে হয় ভুল সময় রুমে প্রবেশ করে ফেলেছি……Please continue…!! এই বলে তুষার দরজা লাগিয়ে দিয়ে অন্য রুমে চলে গেলোহঠাৎ করে তুষারের আগমনে ছায়া লজ্জা পেয়ে আথনুককে তার বুক থেকে সরিয়ে দিয়ে দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলোছায়া রুম থেকে চলে যাওয়ার পর আথনুক বিছানার উপর শুয়ে রইল

ডাইনিং রুম থেকে আথনুককে তার আম্মু ডাকছে আথনুক…..আথনুক!! অনেক রাত হয়ে গেল বাসায় যাবি না বাবা ? মায়ের গলার আওয়াজ শুনে জবাব দিয়ে বলল আম্মু আসছি! আথনুক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো রাত :৩০ বাজে তাই সে আর দেরি না করে রুম থেকে বেরিয়ে এলোআথনুক লক্ষ্য করলো ডাইনিং টেবিলে খাবার লাগানো হয়েছে এবং খাবারের মেনুতে তার পছন্দের খাবার গুলো রয়েছে যেমন: ডাল ভর্তা, টাকি মাছের ভর্তা, চিংড়ি মাছের দোপিঁয়াজু, ইলিশ মাছ, দেশি মুরগি, গরুর মাংসের কালা ভুনা, আরো অনেক কিছু কিন্তু এই মুহূর্তে আথনুকের কিছুই খেতে ইচ্ছে করছেনা তারপরও সে টেবিলে বসে পড়েছেখাবার টেবিলে সবাইকে দেখা যাচ্ছে কিন্তু ছায়াকে দেখা যাচ্ছেনা আথনুক খাবার প্লেট নিয়ে এক হাত গালে দিয়ে আর এক হাত দিয়ে প্লেটের চার পাশে ঘুরাচ্ছে আর মনে মনে ভাবছে ছায়াকে দেখা যাচ্ছে না কেন

আথনুক ভাবছে আজকে আমার জন্মদিন উপলক্ষে কোথায় ছায়া আমাকে খাবার তুলে দেবে সেটা না করে সে কোথায় যেন ঘরের কোনে বসে রয়েছেআথনুক তুষারকে জিজ্ঞেস করলো তুষার ছায়া কোথায়? উত্তরে তুষার বললো আছে হয়তোবা কোনো এক ঘরেতুষারের কথা শুনে মনে হচ্ছে সে তার উপর রেগে আছেআথনুক খাবার টেবিল থেকে উঠে পড়লতুষার ব্যাপারটা বুঝতে পেরে আথনুককে জিজ্ঞেস করলো খাবার রেখে তুই আবার কোথায় চললি? দেখি ছায়া কোথায়! ছায়া ওর রুমে আছে, তুই ডাক দিলেন ? দিয়েছিলাম ও বলেছে ওর খিদে নেই পরে খাবে, পরে খাবে মানে ? আমরা সবাই এখানে খাচ্ছি আর পরে খাবে কেন ? জানিনা তুই গিয়ে জিজ্ঞেস কর

আথনুক ছায়ার রুমে প্রবেশ করে দেখে ছায়া গুটিসুটি মেরে বিছানায় শুয়ে রয়েছেআথনুক ছায়ার পাশে বসে ছায়াকে জিজ্ঞেস করলো তুমি নাকি ভাত খাবেনা ? হ্যা! কেন? শরীরটা ভালো লাগছে না তুমি খেয়ে নাও আমি পরে খাবআথনুক বললো আমার সাথে একটু খাবে চলো…. ছায়া আথনুকের হাত চোটকে ফেলে দিয়ে চোখ গরম করে বললো আমি বললাম না আমার ভালো লাগছেনা তারপরও কেন ডাকছো? আথনুক ছায়ার ব্যবহারে ভীষণ কষ্ট পেয়ে রুম থেকে বেরিয়ে তুষারের রুমে গিয়ে তার ব্যাগ নিয়ে কাউকে কোনো কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে আম্মুকে বললো আম্মু তাড়াতাড়ি খেয়ে নিচে এসো আমি নিচে অপেক্ষা করছিআথনুক নিচে নেমে একটা ট্যাক্সি দাঁড় করিয়ে মোবাইল হাতে নিয়ে পায়চারি করছেঠিক পাঁচ মিনিট পর ছায়া তুষার এবং আম্মু নিচে নেমে আসলোআথনুক আড়া আড়ি ভাবে লক্ষ্য করলো ছায়ার হাতে একটা বড় হট ক্যারিয়ারআথনুক ওদের সবাইকে দেখে ট্যাক্সি ক্যাবে উঠে বসলোছায়া বারবার আথনুকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে কিন্তু আথনুক ছায়াকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে আম্মুকে তারা দিতে থাকলো আম্মু চলো….. অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে এই বলে তুষারের কাছে বিদায় নিলোছায়া আথনুকের পাশে গিয়ে দাড়াতেই আথনুক ট্যাক্সির গ্লাস তুলে দিয়ে চালককে বললো চলুনট্যাক্সির চাকা ঘুরতে শুরু করলছায়া তার চোখ দুটো ভিজে পাশে দাঁড়িয়ে রইলো।।





Very soon will be posted (Part-14) of this story.




নোট: গল্প কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ!!